কবিতা

দহন জ্বালা- কিরণ আহমেদ

সেদিন নিশ্চুপ অনাড়ম্বর বিকেল বেলা কুসুমিত বকুলের ঘ্রাণ
নিয়েছিলাম নির্বিঘ্নে। আমি বুঝিনি কিছুই।

পদ্ম ফুটেছিল বিলে, রঙ আমুদে রঙ বাহারি
তুলতুলে, হৃদয় বাতায়নে
সৌন্দর্যের ছোঁয়া দিয়ে গেল। আমি বুঝিনি কিছুই।

কাঠঠোকরা অশেষ মহিমায় সৃষ্ট শিল্প কিংবা
বাবুই পাখির সৃষ্টি, নিমগ্ন শৈল্পিক চেতনার অভিজ্ঞান;
আমি বুঝিনি কিছুই।

আনকোরা অর্বাচীন বালিকা বলে যাকে চিনতাম,
সে এখন মস্ত বড়ো ফেরিওয়ালা। প্রতিনিয়ত প্রেম ফেরি করে; আমি বুঝিনি কিছুই।

সভ্যতার আষ্টেপৃষ্ঠে যখন তখন ঘটে যাওয়া অনেক
ঘটনার ইতিবৃত্ত দেখি প্রতিদিন।
গলিত লাশের গন্ধ, ধূলির ধরা আর আকাশে
মৃত্যুর মাতম তোলে মুখোশধারীর
ক্লীব ঠোঁটে নিপাট হাসিতে।
আমি বুঝিনি কিছুই।

আমার অন্তরাত্মা প্রতিদিন
কেঁপে ওঠে সভ্যতার প্রতিটি শব্দ অনুরণনে।
নাকের ভেতরে পোড়া গন্ধ ভেসে আসে
তবু আমি অনাঘ্রাত। তবু আমি অবুঝের মতো
প্রতিটি নুড়ি-পাথর হাতে নিয়ে গন্ধ নিতে চাই!
কিন্তু আমার অন্তর, কোন ব্যাখ্যা খুঁজতে চায় না,
যে ব্যাখ্যায় চোখ থেকে মন হয় রক্তাক্ত নিমেষে।
তাই আর দশটি মানুষের মতন
আমি অনাঘ্রাত, নৈঃশব্দ্যের
বাসিন্দা হয়ে থাকতে চাই।
কিন্তু দৃশ্যপটের প্রতিটি চিত্রকল্প পরাবাস্তব জগত হতে
বাস্তবের নিগূঢ় রহস্য চোখের সামনে এনে ফেলে,
আর আমি ফ্যাল ফ্যাল করে
শিশুর মতো তাকিয়ে থাকি।
অসহ্য সেই দহন জ্বালা
প্রতিদিন সহ্য করি।
===================
তারিখ: ০১/১০/২০১৭
স্থান: নিজালয়
সময়: বিকাল ০৫:১৮
রোজ: রবিবার।

Related Posts