গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রবন্ধ

মরু অঞ্চলে সাহিত্য চর্চায় লতিফা গীতি কবিতার স্থান

মরু অঞ্চলে সাহিত্য চর্চায় লতিফা গীতি কবিতার স্থান
গগন ঘোষ


“যে কোন জাতির মানস মুকুর হলো সাহিত্য।মানুষের সাধনা সংগ্রাম হর্ষ ও বিষাদ,পতন ও প্রতিষ্টার পরিচয় থাকে সাহিত্যে,সৃজনের আনন্দ-রস সাহিত্যের পাতায় যেমন নিষিক্ত থাকে তেমনি বেদনার গাঢ় রঙের লাল চিহ্নও সেখানে আমরা দেখতে পাই।সাহিত্য জাতির অভিব্যাক্তি।”
সেই রূপ আবর দেশ গুলি পিছু পা হয় নি সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে।৩০০/৩৫০খৃষ্টপূর্ব (আনুমানিক) “সাবা মুয়াল্লাকা” অর্থাৎ ঝুলান্ত সপ্ত কাব্য গ্রন্থ” নাম দিয়ে প্রকাশ করা হতো।তৎকালীন সময়ে সাত জন কবি কবিতা লিখে দেওয়ালে সকলের পড়ার জন্য ঝুলিয়ে রাখতো বলে এই সকল কাব্যের নাম ছিল “সাবা মুয়াল্লাকা”(ঝুলান্ত সপ্ত কাব্য গ্রন্থ)কবিরা ছিলেন, আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আনতারা ইবনে শাদ্দাদ, ইমরুল কায়েস, তারাফা ইবনে আল-আদ, হারিস ইবনে হিল্লিজা, জুহাইর ইবনে আাবি সালমা।এঁদের মধ্যে অন্যতম কবি ছিলেন ইমরুল কায়েস।এঁদের কবিতা লেখার বিষয় ছিল নারী,প্রেম,মদ,জুয়া ইত্যাদি।
হযরত মুহাম্মদ(সাঃ)এর আবির্ভাবের পর যে সকল কবিরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কবি কায়ার ইবনে আশরাফ।এঁদের কবিতার বিষয় ছিল নবীজির গুন গান করা্।
আরবে আরো নানান ধরণের সাহিত্য চর্চা হয়, তার মধ্যে যুদ্ধ, জয়-পরাজয় নিয়ে বেশ কিছুটা স্থান দখল করে রেখেছে।
হঠাৎ করে বিভিন্ন দেশ ঘুড়ে বাগ দাদে এলেন এক নাবিক সোলায়মান নামে।তাঁর এক বছরের রেখে যায়া মেয়েটি বেশ বড় হয়েছে।সামনে ছয় বছরের জন্মদিনকে উপলক্ষ করে এলেন তাঁর বাসায় বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজন।তিনি মেয়েকে বুকে জড়িয়ে গাইলেন একটি গান।উপস্থিৎ সকলের মন ছুঁয়ে গেলো।তখন থেকে আরবের জনগণের মুখে মুখে গানটি ছরিয়ে পরে।লোকজনও কম না, জনগণ এমন সুন্দর গানটির নাম দিলেন গায়ক সোলায়মানের মেয়ের নামানুশারে “লতিফা”।সম্ভবত লতিফা গীতি কবিতার জন্ম দ্বাদশ ত্রয়োদশ শতকের মাঝা মাঝিতে।কিন্তু কবি সোলায়মান “সাবা ইবনে কায়েস নামে পরিচিত।
দ্বাদশ ত্রয়োদশ শতকের কোন গীতি কবিতা লতিফা না
পায়া গেলেও পনের দশকের লতিফা পায়া যায়।
আাসল লতিফা দেখুন ১৫ শতকের
আল্লাহ্ দয়াবান তিনি মহান
শোন মেহেরবান সৃষ্টি দান।
তোমার দরবারে রাখি নিজ মোর সন্তান জিম্মি,
জান্নাতুল ছায়ায় রাখো তারে করি এই মিনতি।
করি কোরবান মোর যে জান,
তুমি দাতা-জান তুমি যে ত্রান।
মূল কবি “ফাতে ইবনে জায়েদ”
অনুবাদক মৌলনা মুফতি সাহেদ আলী
বর্তমান ইরাকের কুর্দী,ইরানের জৈন,আরবের গ্রামাঞ্চলে লতিফা গানের আসর বসে,পালা করে ছয় লাইনে করে ৮/১০ জন এই গানে অংশ নেন।সব চেয়ে বেশি প্রচলন দেখা যায় আরব যাযাবরদের মধ্যে।পাকিস্থানী আফ্রিদি আদিবাসিরাও লতিফা চর্চা করে বলে জানা গেছে।
আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্য আধুনিক ভাবে লতিফা চর্চা করলে আমাদের সাহিত্যের অঙ্গনে একটি নতুন দিক খুলে যাবে বলে বিশ্বাস করি।
(সংক্ষিপ্ত)
গগণ ঘোষ

Related Posts