গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রবন্ধ

প্রসঙ্গঃ অনু কবিতা ও কবি জেড ইউ আহম্মেদ।

প্রসঙ্গঃ অনু কবিতা ও কবি জেড ইউ আহম্মেদ

গগন ঘোষ


“সাহিত্য যে কোন জাতীর অভিব্যাক্তি”জাতীর বেদনা, কষ্ট,হাসি কাঁন্না উঠে আসে সাহিত্যের মাঝে।বীরত্ব,প্রেম-প্রীতি,দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসা সাহিত্যই বহন করে যুগ যুগ ধরে।বাংলা সাহিত্য বা কাব্য চর্চা শুরু হয় ১২৫০ খ্রীঃ হতে।যা আজো কাব্য সাহিত্য চর্চা চলছে সময়ের সাথে দ্রুতগতিতে।বর্তমান বাংলা কাব্যজগত ঈর্শানীয়।

অনু কবিতা

বাংলা কাব্যকুলে অনু কবিতা বেশ কিছুটা স্থান নিয়ে বসে আছে।প্রাচীন কাব্য চর্যাপদ থেকে আাজ পর্যন্ত এমন কোন কবি নেই যে অনু কবিতার চর্চা করেন নি!

ইংরেজ কাব্যে”জিয়োফ্রি চসার”থেকে অারাম্ভ করে ক্যাথি সং পর্যন্ত অনু কবিতা চর্চা করেছেন।পৃথিবীর সব দেশেই অনু কবিতার চর্চা রয়েছে।যেমন অয়ারল্যান্ড,ফ্রান্সে লেমিরিক,জাপানে হাইকু, তানকা,আরবে লতিফা,ঊর্দ্দতে চার লাইনের লতিফা অনু গীতি কবিতার চর্চা রয়েছে।আমরা লতিফা নামে হিন্দিতেও লতিফার চর্চা দেখতে পাই।

অনু কবিতা সাধারণতঃ১/২/৩/৪/৫/৬/৭/৮/পঙক্তিতেও হয়ে থাকে।যদিও অনেক কবি মনে করেন অনু কবিতা লেখা খুব সহজ আসলে অত সহজ নয়।দক্ষতার সং্গে এই কবিতা লিখতে হয়।একটি কবিতা বিশ লাইনে কবি তাঁর কল্প জগ সৃষ্টি করেন, কবির সেই কল্প জগৎ মাত্র কয়েকটি পঙক্তির মধ্যে সিমাবদ্ধ করতে হবে।এক মাত্রা দক্ষ কবি ছারা অনু কবিতা লেখা অসম্ভব।
আমার জানা মতে পৃথিবীর কোন দেশ কাব্য চর্চা ছারা নেই তেমনি অনু কবিতা ছারাও নেই তবে পুর্ণাঙ্গ কোন অনু কবিতার গ্রন্থ আছে কিনা আমি যথেষ্ঠ সন্ধিহান।আমাদের বাংলা কাব্য জগতে প্রচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত কবি নির্মলেন্দু গুন,কবি শঙ্খ ঘোষ অনু কবিতা লিখেছেন।তাঁদের শ্রেষ্ঠ কবিতার রচনাবলীর শেষ কয়েকটি পাতা জুরে এই অনু কবিতা রয়েছে বিভিন্ন নামে।যেমনঃ কণিকা, ক্ষনীকা,গোধুলীয়া ফুল ফুলিয়া,পাতা ঝরা ইত্যাদি নামে।২-৮পঙক্তিতে।

জে ইউ আহম্মেদের ষটপদী

আমার লেখা “বাংলা কাব্যে ষটপদীর আদি অন্ত” প্রবন্ধে বিস্তারিত লিখেছি তবুও জেড ইউ আহম্মেদের রূপসী বাংলার ষটপদী “মুক্তোমনি” নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়!আমি মনে বিশ্বাস করি বাংলা কাব্যজগৎ এক হাজার বছর হলেও এবং অনু কবিতা চর্চিত হলেও একক ভাবে কোন অনু কবিতা গ্রন্থ প্রকাশ পাই নি।আমাদেরকে একটি অনু কবিতার পূর্ণাঙ্গ কাব্য গ্রন্থের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এক হাজার বছর,সেই কাঙ্খিত ষটপদী কাব্যগ্রন্থ এসেছে আমাদের হাতে জেড ইউ আহম্মেদের হাত ধরে।যদিও ইংরেজিতে ষটপদী চর্চা শুরু হয় চতুর্দশ শতকে।বাংলায় শুরু হয় আরো আগে।

কবির ১২৩৩ টি ষটপদী অনু কবিতার এই সঙ্কলনটি।কবি তাঁর “মুক্তোমনি ” গ্রন্থটিকে ১৫টি অধ্যায়ে বিন্যাস করেছেন।প্রথম অধ্যায়ের নাম “মনের মন্দির”শেষ অধ্যায়ের নাম “চিক্ চিক্ জলের সোনলী সন্ধ্যা”।এই রকম ভাবে অধ্যায় গুলো রয়েছে, মেঘ পিওনের ঝুলি,বিষাদের বহ্নিবেলা,শিশিরের ফুলদানী,সন্ধ্যার সঞ্চয় সন্ধ্যা,ঝরা পাতার গল্প,এই রকম সুন্দুর সুন্দর নামে সাজিয়েছেন অধ্যায় গুলো।সবচেয়ে পাঠককুল রসাস্বাধন করতে পারবেন প্রতিটি অধ্যায়ে কারণ প্রতি অধ্যায়ে রয়েছে অধ্যায় ভিত্তিক বিশেষত্ব যা পাঠকের মনোগঙ্গা সৃষ্টি করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমি এটাও বিশ্বাস করি যে কবির এই গ্রন্থটি বাংলা কাব্য কুলে অনু কবিতার এমন কি বেগমান কাব্য ধারাকে আরো গতিশীল করে তুলেছে।সেই সঙ্গে আমাদের অনু কবিতার অপরিপূর্ণ্য দিকটি পরিপূর্ণ্য করেছে।

সাহিত্যিক বোদ্ধদের এবং বাংলা একাডেমিকে অনুরোধ করবো জেড ইউ আহম্মেদের “মুক্তোমনি”গ্রন্থটি পড়ার জন্য।

Related Posts