ছোটগল্প ভুতুড়ে গল্প

রওশন আরার ছোটগল্প- অসমাপ্ত রাত

#”অসমাপ্ত রাত”#’

======রওশন আরা মুনা


(২য় খন্ড)

মুন্নির কথা শুনে সায়মার বাবা কিছুটা ভচকে গেলেন, অাসলে কী হয়েছেটা কী মুন্নি? তুই এমন করছিস কেনোরে! প্রতিউত্তরে মুন্নির মুখে শুধু একটাই কথা, খালুজান অাগে ছাদে চলেন, এবার অাবুল হোসেন অার থাকতে পারলেন না, মুন্নিকে নিয়ে সোজা ছাদে চলে গেলেন, মুন্নি অাঙুল দিয়ে সাদা কাপড়ে মোড়া অবয়বটি দেখালো, অাবুল হোসেন সেদিকে তাকাতেই অাঁতকে উঠলেন, দ্রুতবেগে ছুটে গেলেন, চুল গুলো সরিয়ে যেটা দেখলেন, সেটা দেখে তার পুরুষ কণ্ঠ টাও চিতকার করে উঠলো, সাই——মা! হে অাল্লাহ তুমি অামাকে এ কী দেখালে! সায়মার মা এ কীভাবে সহ্য করবে! হে খোদা! এভাবে কিছুক্ষণ মেয়ের লাশের পাশে বিলাপ করতে করতে অাবুল হোসেন তার সম্ভিত ফিরে পেলেন, মুন্নি ঠাঁই বসে অাছে, চোখে এক রাশ বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলো, খালুজান ও খালুজান এমন ডা ক্যামনে হইলো! সায়মার বাবা ততক্ষনে পুরো ছাদটা রাউন্ড দিলেন, তা থেকে তিনি যেটা পেলেন সেটা হচ্ছে, পুরো ছাদ জুড়ে ছিটেফোটা রক্তের ছোপ, সায়মার জামার ছেড়া টুকরো, সায়মার কানের দুল, জুতো।
অন্যদিকে অনেকক্ষণ মুন্নিকে না দেখতে পেয়ে, সায়মার মা ফজিলা বেগম নিজেই ছাদে উঠে এলেন, ততক্ষণে সায়মার বাবা মুন্নিকে বলছিলো, মুন্নিরে কী হয়ে গেলো, তোর খালাম্মাকে সামলাবো কিভাবে, সায়মার মা পিছন থেকে বলে উঠলেন কী গো কী সামলানোর কথা বলছো, লাশটা দরজার পিছনে থাকায় সায়মার মায়ের চোখে প্রথমে পড়েনি, তাই তিনি সায়মার বাবার কাছে গিয়ে শুধাতে যাবেন তখনি চোখে পড়লো সায়মার লাশ, কাছে গিয়ে অারো স্পষ্ট হলেন, ওগো অামাদের সায়মার মত লাগছেনা! কিন্তু সায়মা তো ঘরে ঘুমুচ্ছে, ও এখানে অাসবে কেনো? অাবুল হোসেন সায়মার কানের দুল ফজিলা বেগমের চোখের উপরে ধরলেন, সায়মার মা কিছু না বলেই ছুটে গেলেন সায়মার রুমে, সায়মার রুমে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই উনি হচকচিয়ে গেলেন, সে কি সায়মা যে রুমে নেই, বাথরুম, রান্নাঘর সর্বত্র খুঁজে ফজিলা বেগম ছাদের দিকে যেতেই দেখলেন, মুন্নি নেমে অাসছে, মুন্নিকে দেখেই সায়মার মা শুধালেন কী রে সায়মা যে কোথাও নেই। মুন্নি চুপ করে সরে গেলো। ফজিলা বেগম মুন্নির কোনো ভাবান্তর না দেখে ছাদে চলে গেলেন, তিনি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না যে ওটা সায়মা! তার একটায় কথা তার মেয়ে ঘরে ঘুমুচ্ছে।
অাবুল হোসেন সায়মার মাথা কোলে রেখে অশ্রুর ফোয়ারা ঝরাচ্ছেন, সায়মার মায়ের গলা দিয়ে বাধাহীন কান্নার অাওয়াজ শোনা যাচ্ছে,সেই অাওয়াজে পাশের বাড়ির প্রতিতিমারা এলো, অারো এলো শফিকুলের বাবা, এ রকম একটা কুমারী মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সবাই চমকে গেলেন। সায়মার বাবাব কি করবে বুঝতে পারছিলোনা, তাড়াতাড়ি মাথী বড় চাচুকে কল দিলেন,

চলবে…..

Related Posts