গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রবন্ধ

প্রসঙ্গঃ লতিফা-বাংলা লতিফা এবং কিছু কথা

প্রসঙ্গঃ লতিফা-বাংলা লতিফা এবং কিছু কথা
————-গগণ ঘোষ

লতিফা শব্দের উৎপত্তিঃ
আরব লতিফা শব্দটি এসেছে”লুৎফুন”(লাম.ত.ফা) থেকে।”লুৎফুন”শব্দের অর্থ প্রেম,প্রীতি,দয়া,মায়া-মমতা,চিকন।”লতিফা”শব্দেরঅর্থপ্রেমিকা,দয়াময়ী,মমতাময়ী।
“কেতিফা”(কপ.ত.ফা) শব্দের অর্থ “ফসল মাড়াই করা,ফল কাঁটা,ফল তোলা।
এই শব্দ দুটির অর্থ দেখলেই বোঝা যায় “কেতিফা আর লতিফার”অর্থগত দিক থেকে আকাশ পাতাল ফারাক।সুতরাং কেতিফা থেকে লতিফা শব্দের উৎপত্তি হয় নি।সঠিক বিষয়টি উপস্থাপন করলাম মাত্র।
আরব্য লতিফা ও কাব্যঃ
প্রাচিনকাল থেকে আরবরা ধর্ম নিয়ে এতো বেশি গবেষণা করেছেন যে তাঁরা কাব্য চর্চার দিকে তেমন মননশীল হতে পারেন নি, তাই আরবদের সাহিত্য প্রায় শূণ্য কোঁঠায়।কিন্তু জীবনানন্দের জন্য গীতি কাব্যের চর্চা প্রাচিন থেকে আজও বিদ্যমান।দ্বাদশ -ত্রয়োদশ শতকের মাঝা মাঝিতে “সাবা ইবনে কায়েস”এর মননশীল ষটপদী গীতি কবিতা “লতিফা”চর্চা করে আরব কাব্য জগতে নতুন দিগন্তের পথ সৃষ্টি করেন (প্রমান সাপেক্ষে)।যা আজো আরবের বিভিন্ন স্থানে ঈশ্বর প্রেম মানবতার কল্যান গীত হিসাবে প্রচলিত।
বাংলা লতিফাঃ
বাংলাদেশ তথা পশ্চিম বাংলা কিছু সাহিত্যি শ্রদ্ধাভাজন বোদ্ধগণ বাংলা লতিফা নিয়ে চর্চা করছেন তাতে বাংলা সাহিত্য য়ে সমৃদ্ধশালী হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।কিন্তু তাঁরা মনে করেন বাংলা কাব্যজগতের অনু কবিতা ষটপদীই লতিফা।এই খানেই লেগেছে গন্ডগোল,কারণ বাংলাদেশ সহ পশ্চিম বাংলার সাহিত্যিক বোদ্ধদের মতে “বাংলা সাহিত্যের প্রাচিন কাল ধরা হয় চর্যাপদ যুগ থেকে আর তখন থকেই অদ্য পর্যন্ত বাংলা কাব্যকুলে যটপদীর চর্চা হয়ে আসছে।এই ষটপদী কোন নামে নয় এমনিতেেই এটি অনু কবিতা নাম নিয়েই চর্চিত।যা ইংরেজ সাহিত্যে চতুর্দশ শতক থেকে চর্চা হচ্ছে।এখন বাংলা কাব্যকুল ছুটে চলছে দ্রুতগতীতে সেখানে দাঁড়িয়ে ষটপদী কবিতাকে “বাংলা লতিফা”নাম দেওয়া সমচীন হবে না।এবং তা নদীর শেওলার মতো ভেসে যেতে ক্ষনকাল সময় লাগবে না।”বাংলা একাডেমিও এক মত পোষণ করেন।
যুক্তি খন্ডনঃ
নিজের পাতানো জালে নিজেই জড়িয়ে পরাটা ভাল লক্ষন না।শ্রদ্ধেয়গণ বলেছেন সনেট,হাইকু,তানকা,লেমিরিক,তেপাটি ইত্যাদি বিদেশি কবিতার কথা।একটু ভাল করে চিন্তা করলে দেখতে পাবেন এই সকল কবিতা স্ব স্ব নামেই এবং নিয়মেই চর্চা হয়।এক মাত্র সনেট ছাড়া এর ভীতরে থাকা অন্য কোন। কবিতা বাংলা সাহিত্য তেমন ভাবে মনে রাখে নি।সনেট চতুর্দশপদী কবিতা এটি সত্য কিন্তু সকল চতুর্দশপদী কবিতা সনেট না,এটা সকলের মনে রাখা উচিত।অতএব সনেট সনেটই হয়।
ষটপদী কবিতা লতিফা নয়ঃ
ষটপদী অনু কবিতাকে বিশৃঙ্খল ভাবে সাজায়ে সাহিত্যিক বোদ্ধারা বাংলা লতিফা বলতে নারাজ।নিম্নে একটি উদাহরণ দিলাম,
জন্মভূমি/
কাজী আতীক।
একটুখানি হেঁটে গেলেই সামনে নদী,
পিছন থেকে ঝাপটে ধরে চৈতি বাতাস, বৈশাখী ঝড়,
মিষ্টি বউয়ের হাসির মতোই বাদলা দিনের বিজলী চমক।
একটু খানি এগিয়ে গেলেই সামনে আকাশ, মৃদু বাতাস,
সাগর সেচা মানিক আমার পাহাড় ঘেরা দেশখানি
একটুখানি সামনে গেলেই ভালোবাসার সোনার খনি।
(ঢাকা, ২৭ এপ্রিল, ১৯৮৪)
এটি একটি ষটপদী, এটি কোন লতিফা না।লতিফা হতে হবে ছন্দ মাত্রার সুষমা মন্ডিত কাব্যশৈলী।নিম্নে দেখুন লতিফা।
শান্তি
অমল কুমার বর্মন
শান্তির পাখি পায়রা দিলাম উড়ে,
যাচ্ছে তারা সবার নীড়ে নীড়ে ।
ফুলের মতোই পাপড়ি ঝরুক সবার মনে,
কর্পূরের সুস্নিগ্ধ ঘ্রাণেই ভরুক প্রানে।
যেন প্রদীপআলো জ্বলুক ঘরে
গ্লানি নয় সুখ আসুক হৃদয় জুড়ে।
শান্তি
অমল কুমার বর্মন
শান্তির পাখি/পায়রা দিলাম/উড়ে,
যাচ্ছে তারা/সবার নীড়ে/নীড়ে ।
ফুলের মতোই/পাপড়ি ঝরুক/সবার মনে,
কর্পূরের সু/স্নিগ্ধ ঘ্রাণেই/ভরুক প্রানে।
যেন প্রদীপ/আলো জ্বলুক/ঘরে
নয় সুখ/অসুক হৃদয়/জুড়ে।
পর্বঃ
৪/৪/২
৪/৪/২
৪/৪/৪
৪/৪/৪
৪/৪/২
৪/৪/২
♥“স্তুতিগান” ♥
———–শেখ লিটন সরকার।
হে ঈশ্বর দাও শক্তি সত্য জ্ঞান
প্রার্থনায় এই আমার জিকীর-ধ্যান
মূল লতিফায় ষড় রঙে সাজিয়ে মন-দেহ
গুণ-বন্দনা করি প্রাণে যেচে দয়া-স্নেহ
গাই গোপনে তোমার স্তুতিগান
তুমি মহান আল্লা-ভগবান।
♥“স্তুতিগান” ♥
———–শেখ লিটন সরকার।
হে ঈশ্বর দাও/শক্তি সত্য/জ্ঞান
প্রার্থনায় এই/আমার জিকীর-/ধ্যান
মূল লতিফায়/ষড় রঙে/সাজিয়ে মন/-দেহ
গুণ-বন্দনা/করি প্রাণে/যেচে দয়া/-স্নেহ
গাই গোপনে/তোমার স্তুতি/গান
তুমি মহান/আল্লা-ভগ/বান।
স্বরবৃত্তঃপর্ব….
৪/৪/১
৪/৪/১
৪/৪/৪/২
৪/৪/৪/২
৪/৪/১
৪/৪/১.
আসুন ভুল করে নয় সঠিকটি প্রজন্মকে জানিয়ে আধুনিক ভাবে চর্চা করি বাংলায় লতিফা।
(খালি কলশ বাঁজে বেশি)
(চলবে)

২০/১০/১৭ইং

Related Posts